হ্যান্ডস অন রিভিউ Walton Primo VX

Walton Primo VX hands on Review [Exclusive]

আজকের এই স্মার্টফোনের সোনালী দিনে কোন একটা স্মার্টফোন চয়েজ করা দিনকে দিন আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। একই প্রাইস রেঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানী নতুন নতুন ফিচারযুক্ত স্মার্টফোন এনে দ্রুত ক্রেতাদের নজর কেড়ে নিচ্ছে। তাই আজকের দিনে স্মার্টফোন জগতে পাল্লা দিতে হলে স্মার্টফোন শুধু মাত্র হাই স্পীড প্রসেসর ওয়ালা মুঠোফোন হলে হবে না। থাকতে হবে আরো বেশি কিছু। তেমনি এক্সট্রা বেশ কিছু ফিচার সহ ওয়াল্টন বাজারে লঞ্চ করছে তাদের নতুন স্মার্টফোন Primo VX. অসাধারণ বিল্ড কোয়ালিটি, নজরকারা পারফরমেন্স ছাড়াও এই ফোনে থাকছে আরো বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া। এই ফোনের এসব কিছু ইউনিক ফিচারের জন্যই একই প্রাইস রেঞ্জে অন্যান্য ফোনের সাথে প্রতিযোগীতায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে Walton Primo VX.
 
একনজরে দেখে নেই Walton Primo VX এ কিকি অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য:
ডিসপ্লে: কোয়ান্টাম শার্প ৫” ফুল এইচ.ডি ডিসপ্লে
স্ক্রিন রেজুল্যুশন: ১০৮০ * ১৯২০ পিক্সেল, যার পি.পি.আই হলো ৪১৪, যা এক কথায় সুপা্র্ব
র‌্যাম: ২ জিবি
রম: ১৬ জিবি (৩২ জিবি পর্যন্ত মেমোরী এক্সপান্ড করা যাবে)
অপারেটিং সিষ্টেম: এ্যন্ড্রয়েড ৫.১.১
চিপসেট: ৬৪ বিট, কোয়ালকম স্ন্যাপ ড্রাগন ৬১৫
প্রসেসর: ১.৫ গিগা হার্টয ট্র্যু অক্টাকোর প্রসেসর।
জি.পি.ইউ: এ্যডরিনো ৪০৫
ক্যামেরা: ১৩ মেগাপিক্সেল রিয়্যার এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট
ব্যাটারি: ২৩০০ মিলি এম্পায়ার
আগে ভাগেই বলে রাখি Walton Primo VX 4G Network সাপোর্ট করে।
Screenshot_33
তো, আর কথা না বাড়িয়ে চলুন Primo VX এর নানান দিক সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। আপনাদের সাথে আছি আমি ফয়সাল আহমেদ, নিয়ে আসলাম Primo VX এর এক্সক্লুসিভ হ্যান্ডস অন রিভিউ বাংলায় এন্ড্রয়েড সমগ্র এর পক্ষ থেকে।
প্রথমেই থাকছে এই ফোনটির Key Features.
ফোনটি চলছে ৫.১.১ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম এ। এই ফোনটির সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ৬৪ বিট স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ চিপসেটে ১.৫ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর, ২ জিবি র‍্যাম ও অ্যড্রিনো ৪০৫ জিপিইউ এর মাধ্যমে।  ফোনটির রয়েছে ৫ ইঞ্চি ফুল এইচ ডি গরিলা গ্লাস প্রটেক্টেড ডিসপ্লে। রিয়ার ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে BSI Auto Focus টেকনোলজি সমৃদ্ধ ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ফ্রন্ট ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে ৫ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা। এছাড়াও ফোনটিতে নরমাল সকল সেন্সর এর সাথে একটি এক্সট্রা সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেটা হলো Pedometre। এই সেন্সর এর সাহায্যে আপনি আপনার স্টেপস গুনতে পারবেন। ফোনটিতে রয়েছে ২৩০০ মিলিএম্পিয়ার এর হাই ডেনসিটি Li-Po ব্যাটারি।  Primo VX ফোনটি সাদা ও কালো এই দুটি কালারে পাওয়া যাবে।

চলুন দেখে আসি ফোনটির সাথে কি কি থাকছে:

* ব্যাটারি
* চার্জার এডাপ্টার
* ইউ এস বি ক্যাবল
* ইয়ার ফোন
* এক্সট্রা স্ক্রিন প্রটেকটর
* ওয়ারেন্টি কার্ড
* ইউজার ম্যানুয়াল
চলুন, এবার ডিটেইলস এ যাওয়া যাক।
অপারেটিং সিষ্টেম:
ফোনটিতে রয়েছে এন্ড্রয়েড ললিপপের লেটেষ্ট ভার্সন ৫.১.১
Screenshot_2015-09-15-00-09-32

ইউজার ইন্টারফেস:

ফোনের আইকন থেকে শুরু করে প্রতিটা ক্ষেত্রেই বৈচিত্র আনার চেষ্টা করেছে Walton. Walton Primo VX এর প্রতিটা ফাংশনেই আপনারা নতুনত্বের স্বাদ পাবেন।

ডিজাইনঃ

ফোনটির আউটলুক আসলেই খুবি চমৎকার। প্রিমিয়াম রেক্টেঙ্গুলার বিল্ড ফোনটির ডিজাইন-কে করেছে আরও আকর্ষনীয়। ফোনটি হোল্ড করতেও আপনি কমফোর্ট ফীল করবেন। মাত্র ৭.৩ মিলিমিটার পুরু এই ফোনটির ওজন মাত্র ১২০গ্রাম!! ফোনটির বাম দিকে রয়েছে ভলিউম রকারস বাটন।
Screenshot_8
এবং বাম দিকে রয়েছে পাওয়ার বাটন এবং সিম কার্ড স্লট।
Screenshot_3ফোনটির উপরের দিকে রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটার অডিয় জ্যাক পোর্ট।
Screenshot_6
আর ফোনটির একদম নিচের দিকে রয়েছে মাইক্রো ইউ.এসবি পোর্ট, আর তার পাশেই রয়েছে নয়েজ রিডিউস অপশন।
Screenshot_7
ফোনটির পেছনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, সেই সাথে রয়েছে উজ্বল ফ্ল্যাশ লাইট।
Screenshot_10
এছাড়া ফোনটির একদম নিচের দিকে রয়েছে লাউড স্পিকার।
Screenshot_11
আর ডিসপ্লের উপরের অংশে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল শক্তিশালী ক্যামেরা।
Screenshot_2
আর ফোনের একদম নিচের দিকে পাবেন ৩টি ক্যাপাসিটিব টাচ বাটন।
Screenshot_1
ফোনটির সিম্পল বাট এলিজেন্ট স্টাইলিশ লুক সকলের মন কেড়েছে।

ডিসপ্লেঃ

Primo VX ফোনটির একটি অন্যতম আকর্ষনীয় দিক হল এর ডিসপ্লে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুল এইচডি ১০৮০পিক্সেল পিউর ব্ল্যাক আইপিএস ডিসপ্লে। এই ডিস্প্লের কোয়ালিটি কতটা ভাল তা বোঝানোর জন্য ওয়াল্টন “Quantam Sharp” নামক ডিসপ্লের কথা উল্লেখ করছে। এই ডিসপ্লে তে প্রোটেকশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৩। তাছাড়া এই ডিসপ্লের কালার রিপ্রোডাকশন, ভিউয়িং এংগেল অসাধারণ। ফোনটির ৫ ইঞ্চি এই ফুল এইচ ডি ডিসপ্লে ফোনটির সকল ফিচারের মধ্যে অন্যতম। ফোন-টিতে ৫ আঙ্গুল পর্যন্ত মাল্টিটাচ সাপোর্ট করে।
Screenshot_2015-09-15-00-44-48

পারফরমেন্সঃ

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অন্যতম স্মার্টফোন চিপসেট কোম্পানি কোয়ালকাম এর স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ চিপসেট যাতে রয়েছে ১.৫ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর। হাই ক্লক স্পীড এবং এক্সট্রা কোর এর কারণে যেকোন CPU intensive কাজ হয় খুব দ্রুত আর মাল্টিটাস্কিং এর কোন জুড়ি নেই।
Screenshot_4
এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ জিবি র‍্যাম, ফলে সি.পি.ইউ এর সাথে তাল মিলিয়ে যেকোন কাজ হয়ে যাবে চট জলদি। এছাড়া ১৬ জিবি ইন্টারনাল ইউনিফাইড স্টোরেজ থাকায় এপস স্টোরেজ নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই।
আদ্রেনো সিরিজের ৪০৫ মডেলের জিপিইউ এই ফোনের গ্রাফিক্স রিলেটেড কাজ গুলোকে করবে সুপার ফাস্ট। গেমিং এর দিক দিয়ে এই জিপিইউ এর পারফরমেন্স অনন্য।
ও, আসল কথাই তো ভুলে গেলাম। ফোনটির প্রসেসর ৬৪ বিট আর্কিটেকচার ইউজ করছে। আপনি হয়ত বাহির থেকে পারফরমেন্স এর পরিবর্তন টের পাবেন না, কিন্তু আসলে এই পদক্ষেপটি সিপিইউ পারফরমেন্স কে অনেকটা দূরে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ক্যামেরাঃ

ফোনটির রিয়ার ক্যামেরা তে BSI Auto Focus টেকনোলজি ইউজ করা হয়েছে। ফলে পিক কোয়ালিটি হবে আরো ভাল। আর ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার পিক হবে আরো ক্লিয়ার। ক্যামেরার এপারচার f2.0 । এছাড়া ফোনটির রিয়ার ক্যামেরার ফ্ল্যাশ খুবি উজ্জ্বল।
এছাড়া ফোনটির ফ্রন্ট ক্যামেরাতেও BSI টেকনোলজি সমৃদ্ধ ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যার এপারচার f2.4। এছাড়া এর সামনের দিকেও ফ্ল্যাশ রয়েছে।
Screenshot_31
ফোনটি দিয়ে তোলা কয়েকটি ফটো দেখলেই আপনারা এর ক্যামেরা কোয়ালিটি সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
Screenshot_17
Screenshot_14
Screenshot_15
Screenshot_16
সেলফি:
Screenshot_32
নাম শুনেই বুঝতে পারছেন মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরা সম্পর্কে। মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে তোলা পিক দেখলেই বুঝতে পারবেন মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরর কোয়ালিটি কেমন।
চলুন এইবার এই মোবাইল মোবাইল দিয়ে তোলা সেলফি পিক দেখে নেই:
Screenshot_5

সিমঃ

ফোনটির ডুয়াল সিম স্লটেই ৪জি সাপোর্ট করে। যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ফিচার এর তেমন কোন মূল্য বর্তমানে নেই, তবে ইন্টারন্যশনাল মার্কেট এ ঢোকার জন্য ওয়াল্টন এর এটি একটি অন্যতম পদক্ষেপ।

ব্যাটারিঃ

ফোনটিতে ২৩০০ মিলি এম্পিয়ারের লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির ব্যাটারি ব্যাকাপ খুবি ভাল। নরমাল ইউজে ৬ ঘন্টা+ ব্যাক আপ পাবেন।

সেন্সরঃ

ফোনটিতে Accelerometer 3D, Proximity, Light, Rotation Vector, Pressure, Magnetic field, Orientetion ও Pedometre সেন্সর দেওয়া হয়েছে। এই সকল সেন্সর এই ফোনের আরেকটি আকর্ষনীয় দিক।

বেঞ্চমার্ক টেস্টঃ

বরাবরের মতই আমরা এই ফোনে বিভিন্ন বেঞ্চমার্ক টেষ্ট করেছি। এই ফোনের বেঞ্চমার্ক স্কোর এসেছে ২৮,২২৮ আর নেনামার্ক স্কোর এসেছে ৫৬.৯
Screenshot_19
Screenshot_20
Screenshot_21
এছাড়া আমরা Geekbench Test করেছি যার ফলাফল নিম্নরুপ:
Screenshot_23Screenshot_22Screenshot_18
ফোনটি সাদা ও কালো এই দুই রঙে বাজারজাত করা হচ্ছে।
স্পেশাল ফিচার:
স্যামসাং এর বদেৌলতে এখন এখন আপনারা সবাই পেডোমিটার সম্পর্কে জানেন। গ্যালাক্সি এস ৫ এ স্যামসাং সর্বপ্রথম মোবাইলে এই বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। এটা মূলত আপনি যখন হাঁটবেন বা দেৌড়াবেন তথন এই বিশেষ সেন্সর আপনি কতটুকু হাঁটলেন সেটা গণনা করে রাখবে।
Screenshot_30
এছাড়া O.T.A আপেডট সুবিধা তো রয়েছেই।
Screenshot_34
গেমিং পারফরমেন্স:
অক্টাকোর প্রসেসর, কোয়ালকম চিপসেট, আর অ্যডরিনো জি.পি.ইউ বলে এই মোবাইলে যে কোরন প্রকার এইচ.ডি গেমস খেলতে পারবেন কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই।
Screenshot_7
Screenshot_6
Screenshot_2

দাম:

Walton কর্তৃপক্ষ এই মোবাইলের দাম নির্ধারণ করেছে ১৭,৯৯৯ টাকা।
দূর্বলতা:
নন রিমুভ্যাবল ব্যাটারি ছাড়া আমার কাছে মোবাইলের তেমন কোন ক্রটি চোখে পড়েনি।

সবশেষে বলতে হয় Walton Primo VX ফোনটি আসলেই খুব চমৎকার একটি স্মার্টফোন। ফোনটি নরমাল ইউজার থেকে হার্ড গেমার যেকারো চাহিদা পুরণে সক্ষম হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
স্মার্টফোনের এই প্রতিযোগিতার যুগে টিকে থাকার জন্য একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াল্টন।  Primo VX বাজারে এনে ওয়াল্টন তাদের অবস্থান টা আরো দৃঢ় করল। এমনি আরো ভালো ফিচারযুক্ত অনেক ফোন কম মূল্যে আমরা পাব ভবিষ্যতে, এই আশায় শেষ করছি আজকের মত।
ধন্যবাদ।
Share this article :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © 2016. Android Alap - All Rights Reserved
Template Created by Android Alap